রিজভীকেই ‘অদ্ভুত প্রাণী’ বললেন হাছান মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিনিধি >> বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ অদ্ভুত এক প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। রবিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।

 

এসময় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘রিজভী আহমেদ বলেছেন- সরকার অদ্ভুত প্রাণীতে পরিণত হয়েছে। আসলে সরকার নয়, রিজভী আহমেদ নিজেই অদ্ভুত এক প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়েছে। কারণ ওনার মুখে কোনোদিন হাসি দেখি না। উনি সকাল বিকাল মিথ্যা কথা বলেন, মিথ্যাচার করেন। তারা আচরণবিধির কথা বলেন। তাদের কার্যালয়ের সামনে যেভাবে হাজার হাজার লাঠি আর বাঁশ নিয়ে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার জন্য তার দলের নেতাকর্মীরা গিয়েছে, এটা আচরণবিধির কোথায় আছে?’

 

পল্টনে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘যেভাবে পুলিশকে ঘেরাও করে কিল ঘুষি মেরে তাদের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেখানে আচরণবিধির ১১, ১৭, ১৮ সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হয়েছে। পুলিশ তিনটি মামলা করেছে, পল্টন থানার দুই মামলার ২ নম্বর এবং এক মামলার ২৮ নম্বর আসামি রিজভী আহমেদ। আমার পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রশ্ন- নির্বাচন আচরণবিধি লঙ্ঘন করে হাঙ্গামা সৃষ্টির দায়ে যিনি আসামি, তিনি কিভাবে তার কার্যালয়ে বসে অন্য দলের বিরুদ্ধে প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে মিথ্যাচার করেন? আমি পুলিশ এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে অনুরোধ জানাবো, রিজভী আহমেদসহ অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

বিএনপি এবং ঐক্যফ্রন্ট প্রতিনিয়ত আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে দাবি করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে রীতিমতো সমাবেশ করে তারা ধানের শীষে ভোট চেয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত এবং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে মির্জা ফজরুল এবং ড. কামাল হোসেন ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। এটা আচরণবিধির চরম লঙ্ঘন। ড. কামাল হোসেন সাহেব আইনের শাসনের কথা বলেন, গতকাল তিনি যেই ভাষায় কথা বলেছেন, এতে আমার নিজের লজ্জা হচ্ছে। তাই আমি বিএনপিকে অনুরোধ জানাবো, ঘৃণা আর বিদ্বেষ না ছড়িয়ে, কোনও বক্তব্য দেওয়ার আগে আচরণবিধিগুলো দেখবেন।’

 

শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র সম্পর্কে রিজভী আহমেদের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ওপর একটি ডকুমেন্টারি মুক্তি পেয়েছে। শেখ হাসিনার সাধারণ জীবনযাপন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড, তারপর তিনি যে সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে, হার্ডশিপের মধ্যে দিয়ে তার যে জীবন অতিক্রান্ত হয়েছে, দেশের মানুষের প্রতি তার যে মমত্ববোধ, মানুষের অধিকার আদায়ে তার যে সংগ্রাম, এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। যেই ছবিটি দেখার জন্য আজকে সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে, প্রেক্ষাগৃহে জায়গা পাচ্ছে না, এটা নিছক একটি শিল্পকর্ম। এর সঙ্গে রাজনীতি কিংবা ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। এটার সঙ্গে নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই। অথচ এই ছবি নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ নির্বাচন আচরণবিধির কী খুঁজে পেলেন সেটা আমার বোধগম্য নয়। তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

 

খালেদা জিয়াকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানানোর কিছু নেই তাই বিএনপির গাত্রদাহ দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির গাত্রদাহের মূল কারণ হচ্ছে তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে এমন কোনও শিল্পকর্ম বানানোর সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার জীবনী লিখতে গেলে কিংবা জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্র বানাতে গেলে তো বলতে হবে, নিজের জন্মদিন না হওয়া সত্ত্বেও, ১৫ আগস্ট তিনি কেক কাটেন। একটি মানুষের পাঁচটি জন্ম তারিখ এটি বলতে হবে। খালেদা জিয়াকে নিয়ে যদি কোনও চলচ্চিত্র বানাতে হয় তাহলে বলতে হবে তার নেতৃত্বে পাঁচবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পর পর চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তিনি কালো টাকা সাদা করেছেন, তার দুই পুত্রের দুর্নীতি বিদেশে উদ্ঘাটিত হয়েছে। দুর্নীতির দায়ে তার ১০ বছর জেল হয়েছে। খালেদা জিয়ার জীবন নিয়ে চলচ্চিত্র বানালে একটা হরর মুভি হতে পারে, যাকে আমরা ভৌতিক গল্প বলি। ভৌতিক ছবিতে আপনারা দেখেছেন- মানুষ না পোড়ালে নায়িকার ঘুম হয় না। খালেদা জিয়াকে নিয়ে চলচ্চিত্র বানালে এগুলো উঠে আসবে। সেজন্যই শেখ হাসিনাকে নিয়ে বানানো ছবি নিয়ে বিএনপি এবং রিজভী আহমেদের এতো গাত্রদাহ।’

 

বিএনপির লবিস্ট নিয়োগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘গত ১০ বছরে বিএনপি এবং জামায়াত বিভিন্ন লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করেছে। লবিস্ট ফার্ম নিয়োগ করে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকাতে চেয়েছিল, সরকারের বিরুদ্ধে ইউএস সিনেট থেকে শুরু করে সব জায়গায় নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছে। আমি আজকেও দেখেছি একটি পত্রিকায় একটি রিপোর্ট বেরিয়েছে। এই রিপোর্টে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগকে এক পাল্লায় আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এটা একটি ফ্যাব্রিকেটেড রিপোর্ট। এই রিপোর্টে আওয়ামী লীগের বিষয়ে যা লেখা হয়েছে সেগুলোর কোনও সত্যতা নাই।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, উপ দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, রিয়াজুল কবির কাওসার প্রমুখ।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *