মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে- খাদ্যমন্ত্রী

সংবাদ প্রতিনিধি >> মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে সমীচীন জবাব দেওয়া হবে। এই নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ও মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির মধ্যে লড়াই হবে। গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।’

 

রবিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কেরানীগঞ্জের ঘাটারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ‘ঘাটারচর ৭১-এর শহীদ পরিবার স্মৃতি সংসদ’ এর উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন খাদ্যমন্ত্রী।

 

এসময় তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি এখন সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসন নিয়ে মিথ্যাচার করছে। বিএনপির দফতর সম্পাদক রিজভী আহমেদ ২-১ দিন আগে বলেছেন- একটি ক্লাবে বসে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ গোপন বৈঠক করেছে। কিন্তু রিজভী আহমেদ এই বিষয়ে সম্পূর্ন মিথ্যাচার করছে। তার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

 

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিএনপি এখনও জামায়াতকে ছাড়ে নাই। জামায়াত এখন বিএনপির ভেতরে ঢুকে ধানের শীষে নির্বাচন করবে। আমরা সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেনকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে চিনতাম, জানতাম এবং সম্মান করতাম। কিন্তু সেই কামাল হোসেনরা এখন বিএনপির সাথে ঐক্য করেছে। তাই তাদের আর সম্মান করা যায় না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ৭১-এর ঘাতকদের বিচার করার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। দণ্ডপ্রাপ্ত ২২ জন কারাগারে ছিল, যাদের সবাইকে তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন। দালাল আইনে আরও ৭৩১ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছিল এবং ১০ হাজার জন বিচারের অপেক্ষায় ছিল, তাদের সবাইকে তিনি ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তাদের অনেককে তিনি রাজনীতি করার সুযোগ দিয়েছিলেন। খুনি আলীমকে তিনি তার মন্ত্রী সভায় ঠাঁই দিয়েছিলেন। বিএনপি একটি ঘাতক দল। তারা অবৈধভাবে দীর্ঘদিন ক্ষমতা দখল করেছিল।’

 

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘাটারচরের গণহত্যা একটি পৈচাশিক হত্যাকাণ্ড। যা জাতি কখনও ভূলবে না। এই গণহত্যায় মুক্তিযোদ্ধা মোজাফ্ফর আহমেদ বাদী হয়ে যে মামলাটি করেছিলেন, সেই মামলায় কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে। এই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিল সাহসী পালোয়ান ও নুরজাহান বেগম। এই মামলার দেখভাল করার দ্বায়িত্ব ছিল আমার।’

 

এর আগে খাদ্যমন্ত্রী ঘাটারচরে গণকবরের ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান। ঘাটারচর ৭১-এর শহীদ পরিবার স্মৃতি সংসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট এনামুল হক এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা-২ আসনের নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক শফিউল আযম খান বারকু, সদস্য সচিব ইউসুফ আলী চৌধুরী সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক হাজী আবু সিদ্দিক, বাকুর্তা ইউপি চেয়ারম্যান হাজী আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

 

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের এই দিনে ঘাটারচরে হানাদার বাহিনী কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫৭ জনকে নির্বিচারে হত্যা করে। ঘাটারচর কবরস্থানে ৩৪ জনকে একই কবরে সমাহিত করা হয়।

Please follow and like us:
RSS
Facebook
Facebook
Google+
http://sangbadkantho.com/2018/11/%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a7%81%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b6/
Twitter

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *