৩ বছরেও ময়মনসিংহ বিভাগে চালু হয়নি বিভিন্ন বিভাগীয় অফিস!

নিজস্ব প্রতিবেদক,ময়মনসিংহ >>ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠার দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের পর ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোণা, শেরপুর এই চারটি জেলা সমন্বয়ে ময়মনসিংহ বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেন।

 

আজ এই বিভাগ প্রতিষ্ঠার তিন বছর পূর্ণ হয়েছে। তৃতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আয়োজনে সকাল সাড়ে ৯টায় এক শোভাযাত্রা ও অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

 

অন্যদিকে বিকাল ৩টায় ময়মনসিংহ জেলা নাগরিক আন্দোলনের পক্ষ থেকে পৌরসভা সম্মেলন কক্ষে অপর এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। তবে তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি বিভাগীয় অফিস চালু হয়নি।

 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার মাহমুদ হাসান বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘দেশের অষ্টম বিভাগের সার্বিক উন্নয়নে ইতিমধ্যেই ব্রহ্মপুত্র নদের অপর পাড়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় অবস্থিত ৮টি মৌজায় ৪,৩৬৬.৮৮ একর ভূমিতে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত নতুন বিভাগীয় শহর ও বিভাগীয় সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার জন্য নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর, একটি ভূমি ব্যবহার মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে।’

 

‘প্রধানমন্ত্রী ১৭ আগস্ট ১৪টি নির্দেশনাসহ এই মহাপরিকল্পনাটি অনুমোদন করেন। ব্রহ্মপুত্র নদের উপর তিনটি নান্দনিক সেতু দ্বারা নতুন শহরটি পুরাতন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। নতুন শহরের রাস্তাগুলোর প্রশস্থতা হবে ১৫০ ফুট ও ১০০ ফুট। দাপ্তরিক, আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, বিনোদন ইত্যাদি ব্লকগুলো থাকবে আলাদা আলাদা। সুপরিসর একটি প্রাকৃতিক লেকের পাড়ে থাকবে আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার, বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার, মিউজিয়াম, হোটেল-মোটেলসহ নান্দনিক অনেক স্থাপনা’ বলে জানান তিনি।

 

তিনি আরো বলেন, ‘দেশের অষ্টম বিভাগের কার্যক্রম শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ৩১টি বিভাগীয় দপ্তর চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- শিক্ষা বোর্ড, সিটি করপোরেশন ও ব্রহ্মপূত্র নদ খনন এবং নতুন বিভাগীয় শহর বাস্তবায়নের পথে।’

 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের অফিস সূত্রে জানা গেছে, চালু না হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ২৮টি বিভাগীয় অফিস ও পদগুলো হলো- স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস, দুর্নীতি দমন কমিশনের বিভাগীয় পরিচালক, গণ-গ্রন্থাগারের বিভাগীয় কার্যালয়, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক, স্থাপত্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়।

 

খাদ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক, পাট অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়, বিএসটিআই এর পরিচালক/উপ-পরিচালক, বিনিয়োগ বোর্ডের উপপরিচালক, ভূমি সংস্কার কমিশনের বিভাগীয় কার্যালয়, বন অধিদপ্তরের বনসংরক্ষক, আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প করপোরেশনের আঞ্চলিক পরিচালক, বিআরটিএ’র উপপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক, কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি প্রিজন, শ্রম অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক, বিএসটিআই পরিচালক/উপ-পরিচালক, বিআরটিসি ডিপো’র ম্যানেজার অপারেশন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় ইত্যাদি।

 

ফলে সরকার প্রদত্ত নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর এসব অফিসের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সর্বস্তরের মানুষ।

Please follow and like us:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *